বুধবার, ১৮ মার্চ ২০১৫
প্রথম পাতা » জেলার খবর » বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে দুই সস্তানের জননীর অনশন
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে দুই সস্তানের জননীর অনশন
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
চিরিরবন্দরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে দুই সস্তানের জননীর অনশনের খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক সইতে না পেরে অবশেষে নিজের ঘরেই আপত্তিকর অবস্থায় প্রেমিক দেলোয়ারকে হাতেনাতে আটক করেছে ভ্যানচালক স্বামী মিজানুর রহমান। আটকের ঘটনায় দেলোয়ারের পরিবারের ২০/২৫ জন লোক মিজানুরের বাড়ীতে প্রবেশ করে মিজানুরকে মারপিট করে অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে ফেলে দেলোয়ারকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত মিজানুরকে উদ্ধার করে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তৎক্ষনাত দিমেক হাসপাতালে প্রেরন করেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ সুকদেবপুর গ্রামের পীরপাড়ায়।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী আরো জানায়, প্রতিবেশী দুলাল হোসেনের পুত্র দেলোয়ার হোসেন (২৫) ) বিভিন্ন প্রকার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাড়ীর ভ্যানচালক মিজানুরের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী বেবী আরা (২২) এর সাথে গোপনে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো। বিষয়টি স্বামী মিজানুর টের পেলে দেলোয়ারকে হাতেনাতে ধরার জন্য সুযোগ খুঁজতো। ঘটনার দিন রাতে প্রেমিক দেলোয়ার মিজানুরের বাড়ীতে ঢুকে স্ত্রী বেবী আরার সাথে গোপন অভিসারে লিপ্ত হয়। এসময় স্বামী মিজানুর দুজনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবরসহ পাড়া প্রতিবেশীকে সংবাদ দেয়। ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে তাদের দুজনকে বিয়ের কথা বললে দুজনেই বিয়েতে রাজি হয়। তৎক্ষনাত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রস্ততি নেয়া হয় ও কাজীকে ডাকা হয়। অজ্ঞাত কারনে ইউপি সদস্য হাওয়া হলে সকল আয়োজন ভন্ডুল হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে আটক দেলোয়ারকে উদ্ধারের জন্য তার পরিবারের ২০/২৫ জন লোক মিজানুরের বাড়ীতে প্রবেশ করে মিজানুরকে মারপিট করে অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে ফেলে দেলোয়ারকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দেলোয়ারকে ছিনিয়ে নেয়ায় মিজনুরের স্ত্রী বেবী প্রেমিক দেলোয়ারের বাড়ীতে ঢুকে অনশন শুরু করলে তাকে বেধড়ক মারপিট করে বাড়ী হতে তাড়িয়ে দেয়। পরে বেবী প্রেমিকের বাড়ীর দরজায় অনশন শুরু করে। অনশনরত গৃহবধু বেবী জানায়, দীর্ঘ দুই বছর ধরে দেলোয়ার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ভোগ করতো। স্বামীর ঘর ছেড়ে তার দরজায় এসেছি যদি বিয়ে না করে তাহলে আতœহত্যা ছাড়া আমার আর কোন রাস্তা নেই। অভিযুক্ত প্রেমিক দেলোয়ার জানায়, বিয়ের ব্যাপারে তার সাথে কোন প্রতিশ্রুতি হয়নি তবে গোপনে দুজনে মিলিত হতাম। আব্দুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন শাহ জানান, ইতিপূর্বে একই ঘটনায় দেলোয়ারকে আর্থিক দন্ডে দন্ডিত করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ আনিছুর রহমান জানান, বিষয়টি অবগত হয়েছি তবে অভিযোগপত্র না পাওয়ায় আপাতত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।