
রবিবার, ২৮ আগস্ট ২০১৬
প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ | শিক্ষা ও ক্যারিয়ার » অবশেষে মারা গেল উইলসের ছাত্রী রিশা
অবশেষে মারা গেল উইলসের ছাত্রী রিশা
ডেস্কঃ : অবশেষে বখাটে যুবকের ছুরিকাঘাতে আহত সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৫) মারা গেছে। ৪ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যায় রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির বাংলা ভার্সনের এই ছাত্রী।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার জেসমিন নাহার দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কাকরাইলের ফুটওভার ব্রিজে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে এক বখাটে যুবক। তার পেটের বাম পাশে ও বাম হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।
বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় ১০৪ নম্বর বাসায় থাকত রিশার পরিবার।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাফি জানায়, সে ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে কলেজে যাচ্ছিল। এ সময় চিৎকার শুনে ফুটওভার ব্রিজের ওপরে গিয়ে রিশাকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই এবং একজনকে দৌড়ে পালাতে দেখি। তারপর সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, রিশার পেটের বাম পাশে ও বাম হাতে ছুরির আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানান তিনি।
মা তানিয়া হোসেন দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন, ৫ থেকে ৬ মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলে বৈশাখী টেইলার্স নামে একটি টেইলার দোকানে জামা বানাতে দেয় রিশা। ওই সময় তার মোবাইল নম্বরটিও দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই টেইলারের দোকানের একজন কাটিং মাস্টার তার মেয়েকে প্রায়ই ফোন করে উত্ত্যক্ত করত। পরে বাধ্য হয়ে ফোনের সে সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই ওই কাটিং মাস্টার তার মেয়েকে বিরক্ত করত। স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত।
তিনি ধারণা করছেন, ওই কাটিং মাস্টার এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি আরও বলেন, তার নাম জানা নেই। তবে ওই ছেলের চেহারা তার মেয়ের জানা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে মেয়েকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কথা বললেই বোঝা যেত ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ওই ছেলেটি জড়িত কি না।
রিশার স্কুলের গণিত বিভাগের শিক্ষক ইকবাল হোসেন দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রিশা স্কুলে সবসময় হাসিখুশি থাকতো। তাকে কোনো রকমের শাসন করলেও সে হাসতো। খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ছিল রিশা।