শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

Daily Pokkhokal
বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
প্রথম পাতা » জেলার খবর | বিশ্ব সংবাদ | রাজনীতি | সম্পাদক বলছি » অবিবাহিত সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীরা ভয়াবহ আতঙ্কে
প্রথম পাতা » জেলার খবর | বিশ্ব সংবাদ | রাজনীতি | সম্পাদক বলছি » অবিবাহিত সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীরা ভয়াবহ আতঙ্কে
৭৩৩ বার পঠিত
বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

অবিবাহিত সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীরা ভয়াবহ আতঙ্কে

---
পক্ষকাল ডেস্ক ঃমিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের হামলার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশই অবিবাহিত তরুণী। এসব তরুণীর মধ্যে অনেক সুন্দরী তরুণীও রয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে ঠাঁই নিয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসলেও এসব তরুণীরা শান্তিতে নেই। প্রতিনিয়ত তাদের তাড়া করছে এ দেশীয় লম্পট ও দালালদের কালো হাত। এ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোহিঙ্গা তরুণীরা। নিরাপত্তাহীনতা তাদের পরিবারকেও ভাবিয়ে তুলেছে বলে জানা গেছে।

দলে দলে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নানাভাবে প্রত্যক্ষ করে ভাড়া নিয়ে দালালদের বিড়ম্বনা, নগদ টাকা, স্বর্ণলংকার, মোবাইল সেট কেড়ে নেয়া, গরু-ছাগল-মহিষ লুটপাট করা, পানি-খাবার সঙ্কট ইত্যাদির পাশাপাশি চরম সমস্যায় ভুগছেন রোহিঙ্গা সুন্দরী তরুণীরা।

যেসব মা অথবা বাবার কাছে সুন্দরী তরুণী রয়েছে তারা চরম নিরাপত্তা সঙ্কটে ভুগছেন। মা-বাবার চেয়েও বেশি আতঙ্কে রয়েছে সুন্দরী তরুণীরা। পালিয়ে আসা তরুণীদের মধ্যে অধিকাংশরই কোনো না কোন আত্মীয় হত্যার শিকার হয়েছেন। এই নিয়ে তারা শোকের সাগরে ভাসছে। তার উপর লম্পটদের হানা তাদেরকে অসহায় করে তুলেছে।

জানা যায়, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতায় কাজ করছেন স্থানীয় লোকজন। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকেও লোক গিয়ে অসহায় রোহিঙ্গা সহযোগিতা করছেন। কিন্তু কিছু স্থানীয় দুষ্টু লোক রোহিঙ্গাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের গরু-ছাগলসহ নানা জিনিসপত্র লুট করছে। একইভাবে সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের উপর কুনজর দিয়েছে স্থানীয় কিছু লম্পট শ্রেণীর লোক ও পতিতার দালালরা। তারা সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের টার্গেট করে নানাভাবে কুপ্ররোচনা দিচ্ছে। বাগে না পেয়ে অপহরণ পর্যন্ত করছে। অন্যদিকে পতিতার দালাল চক্রও টার্গেট করেছে সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের। তারা অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সুন্দরী তরুণী ও তাদের পরিবারকে ফুঁসলাচ্ছে। এতে নিরাপত্তা সঙ্কট ভুক্তভোগীদের কুরে কুরে খাচ্ছে।

মিয়ানমারের বুচিদং টমবাজার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং অস্থায়ী রোহিঙ্গা বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছে তরুণী হামিদা। তার বাবাকে মিয়ানমারের সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে।

মা ও এক ছোট বোনের সাথে ৪ দিন আগে সে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসেও স্বস্তিতে নেই তরুণী হামিদা ও মা আলেয়া খাতুন। সুন্দরী হওয়ায় কিছু লম্পট তরুণীটিকে ঘিরে রয়েছে। একই সাথে দালালও তাদের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। গত তিনদিন ধরে নানাভাবে তরুণী হামিদা ও তার মাকে ফুঁসলাচ্ছে লম্পট ও দালালরা। নানাভাবে লোভও দেখাচ্ছে। তারা তরুণী হামিদাকে কুপ্রস্তাবও দিয়েছে। বিনিময়ে টাকা দিবে বলে প্রলোভন দিচ্ছে। শুধু লম্পট যুবকেরা নয়, কয়েকজন দালালও হামিদার মাকে টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণী হামিদাকে তারা হোটেলে রাখবে। বিনিময়ে অনেক অনেক টাকা দেবে।

হামিদা বলেন, ‘বাবাকে চোখের সামনে মরতে দেখেছি। নিজের প্রাণ বাঁচাতে চরম আতঙ্ক নিয়ে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই। প্রতিনিয়ত লম্পটদদের কালো হাত তাড়া করছে। এই আতঙ্কের কারণে একটুও শান্তি পাচ্ছি না। মা আলেয়া খাতুন বলেন, ‘নিজ দেশ ছেড়ে জান বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি। সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেও বিপদ পিছু রয়েছে। আমার খুব ভয়, না জানি মেয়েটা হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই রাতদিন মেয়েকে নিজ হাতে ধরে রেখেছি।’

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সংখ্যা খুব অপ্রতুল হওয়ায় নিরাপত্তার প্রকট সঙ্কট বিরাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)